সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

সেপ্টেম্বর, ২০২২ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আমি যদি কাক হতাম

                   ২২ মে । আর সকল দিনের মতোই ছিল সবার জন্য । শুধু আমার আর আহিয়ানের জন্য কিছুটা ব্যতিক্রম ছিল । গতকাল ছিল তার (প্রয়াত বউয়ের) চলে যাবার ১ম বার্ষিকী । ২০২০ সালের ২২ মে , জুম্মাতুল বিদার দিনে বিকেল ৩.১৫ মিনিটের সময় সে চলে গেছে আমাদের ছেড়ে , ছোট্ট বাবুটাকে সাথে নিয়ে । এই এক বছরে অনেক কিছু বদলেছে ,      সাথে বদলেছি আমি আর নিজেকে বদলে নিয়েছে আহিয়ান । গতকাল দিনটাকে আর দশটা দিনের মতোই স্বাভাবিকভাবে কাটানোর চেস্টা করেছি । কতকটা পেরেছি আবার কতকটা পারিনি । শুধু একবার আফসোস করে ভেবেছি , " আমি যদি কাক হতাম!"   নজরুল আমার প্রিয় কবি । ছোটবেলা থেকেই । দু:খ কস্টে , দারিদ্রে , শ্রমে ঘামে , আত্মমর্যাদায় , অভিমানে বেচে থাকা নজরুল আমার খুব প্রিয় , খুবই শ্রদ্ধার । নজরুলের একটা গান/গজল ছোট বেলা থেকে খুব পছন্দ করতাম , গুনগুন করে গাইতাম । সেটা ছিল- আমি যদি আরব হতাম , মদিনার ও পথ সেই পথেতে হেটে যেতেন ,  নুর নবী হযরত (স) । কাল মনে হচ্ছিল , আমি যদি কাক হতাম!         ...

আমি যেন বাবা হয়ে গেছি:

           ছোট বেলা থেকেই আমি আম্মার পিছু পিছু থাকতাম । বলা যায় আম্মার আচল ধরে সারাদিন । অনেক বড় হবার পরেও আম্মার সাথেই ঘুমাতাম । আম্মা যেদিন বলেছিলেন , আজ থেকে তুই আলাদা থাকবি , সেদিন আম্মার খাটের পাশে মাটিতে পাটি বিছিয়ে ঘুমিয়েছি । কিন্তু থেকেছি আম্মার আশেপাশেই । আব্বাকে ছোট বেলায় পেতাম সপ্তাহে মাত্র একদিন । শুক্রবার । আব্বা ঢাকা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে আসতেন আর শনিবার খুব ভোর বেলায় চলে যেতেন । আমি যতটা আম্মার পিছু পিছু ঘুরতাম , আব্বাও তেমনি বাড়ি এসেই আমার পিছুপিছু ঘুরতেন । বলা যায় বাড়িতে থাকা পুরো সময়টা আমাকে কাছে রাখতেন । আমি যতই পালিয়ে থাকতে চাইতাম , আব্বা ততই আমাকে কাছে ডেকে রাখতেন । মনে আছে , মাঝে মাঝে খুব রাগ লাগত । কিন্তু মুখ ফুটে বলার সাহস হয়নি কখনো ।   আম্মা মারা যাবার পর , সেই ২০০৭ সাল থেকে আব্বাকে বুঝতে শুরু করি । সেটা ঠিক আম্মার অভাব পুরন করার জন্যে বলা চলে । আমি তখন অনার্স এ পড়ি । বাড়ি গেলেই আম্মার স্মৃতি আমাকে পেয়ে বসতো তাই আব্বার কাছে ঘেষা শুরু করি । আব্বাও তখন আমাকে আরও বেশি করে কাছে রাখতে চাইতেন । অনেক রাত অবধি আব্বার সাথে আড্ডা হ...

আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে:

মঙ্গলকাব্যের এই একটা উপাধ্যায় আমার মনে খুব রেখাপাত করেছে । আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে! প্রত্যেকটা পিতামাতার কাছেই তার সন্তান তার পরম সাধনার ধন । পিতার স্বপ্নের ফল ও ফসল । একজন পিতা কাদামাটিতে যে বীজ বুনে যায় , একজন সন্তান সেই বীজ থেকে চারা গজিয়ে দিনে দিনে তাকে মহীরুহ করে গড়ে তুলে । পিতা বেচে থাকেন আর না থাকেন , সন্তান তার পিতার স্বপ্নের জালে পালতুলে নতুন স্বপ্নের বীজ বুনে যায় পরবর্তি সন্তানের জন্যে । আর এভাবেই যুগযুগ ধরে স্বপ্নেরা বেচে থাকে , ভুমিতলে । পৃথিবীর আবাদি এভাবেই বেড়ে চলে!                    আমি আজন্ম ঘুমকাতুরে লোক । সেই ছোটবেলা থেকে সংসার জীবনের আগ পর্যন্ত আমার ঘুমের এমন অবস্থা ছিল যে একবার ঘুমিয়ে যাবার পর আমার সামনে কেহ ঢোল পিটালেও আমার ঘুমের কোন গত্যান্তর হতোনা । আমি ঘুমের কোলেই থাকতাম । আবার এমনও ছিল , নিজে থেকে জেগে উঠার আগে কেহ আমাকে ঘুম থেকে জাগালেই আমার মাথা ব্যাথা হতো খুব । একারনে সাধারনত কেহ মানে পরিচিতজনদের মাঝে কেহ আমাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলতোনা । আমি আমার মত করে ...

অসহায় পাতাবাহার

             হুট করেই একদিন বউ কিছু পাতাবাহারের ডাল নিয়ে এসেছে বাসায় । আমি জিজ্ঞাসা করলাম , এগুলা দিয়ে কি হবে ? সে হেসে জবাব দিল , আমি এদের পালক নিয়েছি , এদের পেলে পুষে বড় করবো! আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম তার মুখের দিকে! বললাম , আমাকে বলতে , নার্সারি থেকে টব এনে দিতাম , সে বললো , এদের আমি ভিন্নভাবে পালবো! শুধু পানি দিয়ে বা প্লাস্টকের বোতলে এভাবে গাছ বাচতে পারে তা আমার ভাবনার বাইরে ছিল । সে বলেছিল , " শুনেন , আমার রহমতুল্লা , শুধু অনেক ভালবাসা আর একফোটা পানি দিয়েও বেচে থাকা যায়!" আমি নির্বাক হয়ে চেয়েছিলাম তার চোখে মুখে । সত্যিই কি ভালবাসার এত শক্তি ? আমরা গ্রামে বড় হয়েছি । আমাদের চারপাশে মাটি আর পানির কোন অভাব ছিলনা কোনদিন । যখন কোন গাছ , ফুল যাকিছু ভাললেগেছে , মাটিতে পুতে দিয়েছি । প্রথম প্রথম কিছুদিন সকাল বিকেল পানি দিয়েছি তারপর এমনিতেই গাছ ফুল বেড়ে উঠেছে । সেটা কতটা অযত্ন অবহেলায় তা ভেবে দেখিনি কোন কালে! মাটির স্বাদ নিয়ে গাছ বেড়ে উঠবে এটাই চিরন্তন জেনেছি । হাইস্কুলে পড়ার সময় আমাদের বাগান বাড়িতে মেঝভাইয়ের সাথে , তার অনুপ্রেরনায় ফুলের বাগান করেছিলা...