মঙ্গলকাব্যের এই একটা উপাধ্যায় আমার মনে খুব রেখাপাত করেছে। আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে!
প্রত্যেকটা পিতামাতার
কাছেই তার সন্তান তার পরম সাধনার ধন। পিতার
স্বপ্নের ফল ও ফসল। একজন
পিতা কাদামাটিতে যে বীজ বুনে যায়, একজন
সন্তান সেই বীজ থেকে চারা গজিয়ে
দিনে দিনে তাকে মহীরুহ করে গড়ে তুলে। পিতা
বেচে থাকেন আর না থাকেন, সন্তান
তার পিতার স্বপ্নের জালে পালতুলে নতুন স্বপ্নের বীজ বুনে যায় পরবর্তি
সন্তানের জন্যে।আর
এভাবেই যুগযুগ ধরে স্বপ্নেরা বেচে থাকে, ভুমিতলে। পৃথিবীর
আবাদি এভাবেই বেড়ে চলে!
আমি
আজন্ম ঘুমকাতুরে লোক। সেই
ছোটবেলা থেকে সংসার জীবনের আগ পর্যন্ত আমার ঘুমের এমন অবস্থা ছিল যে একবার
ঘুমিয়ে যাবার পর আমার সামনে কেহ ঢোল পিটালেও আমার ঘুমের কোন গত্যান্তর
হতোনা। আমি
ঘুমের কোলেই থাকতাম। আবার
এমনও ছিল, নিজে
থেকে জেগে উঠার
আগে কেহ আমাকে ঘুম থেকে জাগালেই আমার মাথা ব্যাথা হতো খুব। একারনে সাধারনত
কেহ মানে পরিচিতজনদের মাঝে কেহ আমাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলতোনা। আমি আমার
মত করে ঘুমাতাম। আমার
মনে আছে,আমার
জীবনে আমি আমার মেঝভাই Enayetullah Bhuiyan এর
যত বকুনি খেয়েছি তার ৯০% ই আমার ঘুমের জন্যে।
বিধাতার কি
বিধান, আহিয়ানের
জন্মের পর আল্লাহ যেন আমাকে পুরোপুরি পালটে দিলেন। বউ(প্রয়াত)
অসুস্থ ছিল বিধায় রাতে ব্যাংক থেকে ফেরার পর থেকে সকালে যাবার আগ
পর্যন্ত আহিয়ানের সম্পুর্ন দেখভাল আমার দায়িত্বে ছিল। সাথে
আহিয়ানের মায়ের
ও। সে
ঘুমের ঔষধের প্রভাবে বেঘোর ঘুমে। সারাদিনের
কাজের পরে রাতের বেলায়
আমার শরীর কিন্তু আগের মত চুপষে যেতনা। বালিশের
পাশে গরমপানির ফ্লাক্স,
দুধের
কৌটা, ফিডার
আর কয়েকটা ডায়াপার নিয়ে ঘুমাতে যেতাম। আহিয়ানের অভ্যাস
এমন ছিল, ক্ষুদা
পেলে কান্না করার ঠিক ৫/৬ সেকেন্ডের মধ্যে মুখে দুধের
ফিডার তুলে দিতে না পারলে সে আর দুধ খেতনা। সারারাত
শুধু কান্না করে যেত। তাই
সেই ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত আমার কপালে আর বেঘোর ঘুম জুটেনি। আহিয়ানের
ঘুম থেকে এপাশ ওপাশ ফিরতেই আমার ঘুম ভেংগে যায়। যদিও
এখন আর
তার ঘুমের ঘুরে ফিডার খাবার বয়স নেই,কিন্তু
সেই যে আমার কলিজাতে ভয় ঢুকেছে,
আমার
যে সেন্স জাগ্রত হয়েছে, সে
এখনও জাগ্রত! সবই আমারছেলেরজন্য।
অনেক ভুমিকা
করে নিজের পিতার দায়িত্বের পসরা একারনে দিলাম যে,আমাদের
সমাজে যে সন্তানেরা
বিপথে যাচ্ছে, ধর্ষক
হচ্ছে,খুনি
হচ্ছে, মাদকসেবি
হচ্ছে, ক্রিমিনাল
হচ্ছে তাদের কেও তাদের বাবা মায়েরা অনেক সাধনা করেই বড় করেছে। সব বাবা
মায়েরাই তাদের স্বপ্নের বাস্তবায়নের অবলম্বন হিসেবে সন্তানকে আকড়ে ধরে
রাখে। নিজেদের
কস্ট,শ্রম
আর সাধনার দ্বারা সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত করতে অক্লান্ত
খেটে যায়। কিন্তু
সেই ১ দিনের বাচ্চা থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত প্রতিটা
বাবা মায়ের সকল শ্রম একনিমিষে শেষ হয়ে যায়,সন্তানের
একটা ভুল পদক্ষেপে।
এইযে
আজকে দিহান নামের ছেলেটা সারা বিশ্বের কাছে ধর্ষকরুপে
প্রকাশ,তার
বাবা মায়ের হয়ত এখন দুনিয়ার আলোয় মুখ দেখাতেও লজ্জা হচ্ছে
কিন্তু এই কদিন আগেও নিশ্চয়ই তাদের স্বপ্নেরাও ডালপালা মেলেছিল। কিন্তু
আজ সব শেষ। যে
মেয়েটা ধর্ষিত হয়ে মৃত্যুবরন করেছে,দেখছি
সোশাল মিডিয়াতে
নানাজনে নানা মত দিচ্ছেন,কেহ
পক্ষে কেহ বিপক্ষে! সবাই সবার মতামত দিচ্ছেন
কিন্তু একজোড়া বাবা-মা কিন্তু ঠিকই তাদের স্বপ্নের সলিল সমাধি দিয়েছে। একজোড়া
বাবা-মা তাদের মেয়েকে হারিয়েছেন,আরেকজোড়া
জীবিত থেকেও ছেলেকে
দেখবেন ধুকে
ধুকে মরতে। এটাযে
কত কস্টের একটা বাবা মা এর জন্য,হয়ত কেবল
মাত্র ভুক্তভোগী ছাড়া আর কারও বুঝা সম্ভব না।
যে
ছেলেকে জীবনের সব
কিছু ত্যাগ করে, তিলে
তিলে বড় করছি, নিজের
স্বপ্নকে পেলে পুষে বুকের মাঝে
আকড়ে আছি, সেই
স্বপ্নের জন্য প্রতিটা মুহুর্তেই অজানা আশংকা ভীর করে, আল্লাহর
দরবারে দুইহাত তোলে, অথবা
হাত না তুলেও বলতে থাকি একটা কথাই,
আমার
সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে!
আমার
স্বপ্নেরা বেচে থাকুক সবুজের সাথে,
মিশে
থাকুক প্রতিটা শিশির কনায়
উড়ে
বেড়ানো ধুলিকনায় আর
প্রতিটা
আলোক বিন্দুতে।
বেচে থাকুক,
ডালপালা
মেলে বড় হয়ে উঠুক। লড়ে
হেরে লড়ে বাচতে শিখুক। জীবনটা যেহেতু
পুস্পসয্যা নয় তাই সৈনিক হয়েই বেড়ে উঠুক। তবুও
বেড়ে উঠুক।
আমার
স্বপ্নেরা বেড়ে উঠে পরবর্তী স্বপ্নের জন্য ভীত বুনে যাক। বেচে
থাকুক স্বপ্নেরা!!
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন